ershadmz March 31st, 2007
আসা আর যাওয়ার মাঝে
কত সময় বলো
সেই সময়েই জীবনখানি
বন্দী এলোমেলো।
এই সময়ের কত নাম
সকাল দুপুর সন্ধ্যা
এই জীবনের কত নাম
ফুল ফলারি বন্ধ্যা।
যত নামেই ডাকো তাকে
যতই সুধা ঢালো
সময়ই তার আসল নাম
আলার মাঝেই কালো।
১৬।১।৯০
ershadmz March 31st, 2007
সারা উঠোন জুড়েই ছিলো
বিদ্যা শিক্ষার মহা আয়োজন
কাঠি দিয়ে মাটিতে মায়ের লিখন
অ আ ক খ
দুয়ে দুয়ে চার।
সুরুজ উঠার আগেই
ছক বাঁধা দিনের কাজ
ফজরের নামাজ দিয়েই শুরু।
প্রথমে সুলতান ভাইয়ের পানিভাত
গেরস্থালির কাজে
সেই ছিলো মায়ের সাথী।
মুনাফ ভাইয়ের মাঠে যাওয়ার সময়
সুরুজটা হন হন করে
দুয়ারে এসে দাঁড়ায়।
১৬।৬।৯৬
ershadmz March 31st, 2007
মা’র হাতে সময় নেই
সবার নাশতার আয়োজন
পাশের বাড়ির মজুর হাত ধরে
আমার স্কুলে যাওয়া
বাবার জামা সেনালী বোতাম
এক খিলি পান সব গোচগাছ করা
বাবার গদীতে যাওয়া
সব কিছুই মায়ে সরকারে।
মা কখন নাওয়া খাওয়া করে
সংসারে কেউ জানেনা।
কালে ভদ্রে সময় গড়িয়ে গেলে
পান হাতে লম্বা ঘোমটা টেনে
বাবার পালংকের পাশে মা।
এসুর মা , শরীর কেমন?
ছেলেটার জ্বালায় আর পারিনা
শত মস্ ক করেও
অংকে পেয়েছে দু’কম পাঁচ কুড়ি
কি করি বলুন
বাবা বলতো
ও,তাই বুঝি।
ershadmz March 30th, 2007
অহংকারের সুরা পান করেই
শয়তান হলো বেহুঁশ
এখন ভালো মানুষের বিপদ
ভালো কথা বললেই
পাথরের বৃষ্টি নামে।
প্রকৃতির বৃষ্টি শরাবুন তহুরা
পান করেই পৃথিবী পোয়াতি হয়
বীজ অংকুরিত হয়
ফুলে ফলে জগত শোভিত হয়।
শয়তানের জনসভায় কোটি কোটি মানুষ
অবাধ্যতার অশেষ পুরস্কার
ভালো মানুষ কোমর মাটিতে
চারিদিকে পাথর বৃষ্টি।
১।৬।৯২
ershadmz March 30th, 2007
একুশ মানে মাতাল হাওয়া
আবেগে আবেগে চলা
একুশ মানে ফুলের বনে
বুঝ অবুঝের খেলা।
একুশ মানে পাখীর পালক
মেঘের ভেলায় ওড়া
একুশ মানে ছোট নদী
উদোম ছেলের পড়া।
একুশ মানে সাত আসমান
হাজার রংয়ের খেলা
একুশ মানে বন্দী স্বদেশ
শিকল ভাংগার বেলা।
২০।২।৯০
ershadmz March 30th, 2007
সবুদ ছিলনা বলে মুখ ফুটে কথাটা
বলিনি কোনদিন
মনে হতো ঘর ছাড়লেই আমি
রণির বাপ আবার সংসারী হবে।
অনন্ত ঠিকানায় বড়ই একাকী আমি
তবুও মাঝে মাঝে ঘুরে ফিরে দেখি
আমার সাধের সংসার
সব ঠিকঠাক আছে যেখানে যেমন।
ছেলেরা বিদেশে আছে
আছো তুমি একা একা গৃহকোনে
লৌকিক নেশায় বুলায়েছি হাত
তোমার কাতর শরীরে।
আর কতকাল কাটবে তোমার
পার্থিব জীবন
ভালবাসা প্রেমহীন সাথীছাড়া
ওই নিভৃত ঘরে।
এখন এই অনন্তে মনে হয়
শত ব্যর্থতায় হৃদয়ে ছিল এক জান্নাত
তোমার লাগি।
২।৬।৯৩
ershadmz March 30th, 2007
পৌষের আবছা ছায়ায়
কর্ম মুখর নবান্ন মেলায়
ভীড় জমেছে প্রাণের মেলায়
অবসর নেই এই অবেলায়।
কয়লার ধোঁয়া আকাস ঢেকে
আসছে রেল গাঁয়ের বাকে
জোয়ানরা ফিরবে এবার আপন ঘরে।
মরা গাঙের বাঁশের সাঁকোয়
দাঁড়িয়ে বধু বাতি হাতে
আসবে কসম ঘাম ঝরিয়ে
ডাকবে তাকে আগ বাড়িয়ে।
শিশির ভেজা মাঠ পেরিয়ে
শেয়াল ডাকা ওই আঁধারে
বধুর হাত হাতে ধরে
ফিরলো সবাই আপন ঘরে।
১৩।১২।৬৪
ershadmz March 29th, 2007
অহংকারের শরাব যাকে করলো বেহুঁশ
খোদ খোদারই সামনে ভাই
সেই শরাবী এখন আমার
নিত্যদিনের সংগী তাই।
এখন আমি তার তাবেদার
দুই মাতালের জান ইয়ারী
দুনিয়াটা আজ মাতালের
তাইতো সবাই দরবারী।
ভালো আছি ভালোই আছি
খোষ খবরী জানাই সবে
হালত আমার ওই আগুনে
মাতলামীটা কাটলো যবে।
৬/৯/৯২
ershadmz March 29th, 2007
ঝোঁকের মাথায় চলি বলে
শোকের মাঝেই বাঁচি
সুখের ঘরে আগুন দিয়ে
তা ধিন তা ধিন নাচি।
মনের খবর কেউ রাখেনা
ধনের গোলাম ভাই
সুখের ঘরে বন্দী হয়ে
স্বাধীন হতে চাই।
শোক সাগরে ডুবেই থাকি
ঝোঁকের গোলাম হই
সবাই গেলো আমায় ছেড়ে
একলা পড়ে রই।
২০০২ সালে আন্তর্জাতিক কবিতা পরিষদের পুরস্কার প্রাপ্ত। ইংরেজী অনুবাদ Predilection.
ershadmz March 29th, 2007
সবাই যেমন ভাবে
তেমন ভাবিনা বলেই
মাতাল হলাম।
সবাই যেমন চলে
তেমন চলিনা বলেই
আড়াল হলাম।
সবাই যেমন বুঝে
তেমন বুঝিনা বলেই
অবুঝ হলাম।
সবাই যেমন বাসে
তেমন বাসিনা বলেই
নিন্দা পেলাম।
সবাই মিলে একটা দাবী
সবার মতো চলো
সবাই যেমন তুমিও তেমন
হুজুর হাজির বলো।
১৬/৬/৯৬